লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১০-এর সেরা সুন্দরী হলেন মাহাবুবা ইসলাম রাখি। পুরস্কার হিসেবে এ সুন্দরী পেয়েছেন মিতসুবিশি ল্যান্সার কার ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত একটি ছবিতে মুখ্য নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করার সুবর্ণ সুযোগ এবং অভিনয়ের ওপর এক বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক শিক্ষাবৃত্তি। বিজয়ীর মাথায় সেরার মুকুট তুলে দেন গতবারের সেরা সুন্দরী মেহজাবীন। প্রথম রানারআপ হন মৌসুমী হামিদ। এ সুন্দরী পেয়েছেন তিন লাখ টাকা। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মেহরীন ইসলাম নিশা। তিনি পেয়েছেন এক লাখ টাকা। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল ফেইমে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ মোহন এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। এ সময় প্রতিযোগিতার বিচারক ও নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই ফাইনালিস্ট হলেন মাশিয়াত তাসনিম রহমান ও মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া। চূড়ান্ত পর্বে বিচারক ছিলেন আলী যাকের, সুবর্ণা মুস্তাফা, তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি ও নোবেল। মসৃণ ও সুন্দর ত্বকের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন রোমা। তার হাতে এক লাখ টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন বিউটিশিয়ান তাসলিমা চৌধুরী কণা। সুন্দর মুখের হাসির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন সোহানী। তার হাতে এক লাখ টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। সুন্দর চুলের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন নীরা। তাকে এক লাখ টাকা ও ক্রেস্ট তুলে দেন বিউটিশিয়ান ফারজানা শাকিল।অনুষ্ঠান শুরু হয় 'লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার সেরা ১০ জনের একটি নাচের মধ্য দিয়ে। এর সঙ্গে 'সোনার কাঠি রুপার কাঠি' শিরোনামে উদ্বোধনী গান পরিবেশন করেন শিল্পী সিমিন। এরপর নাটকীয় ভঙ্গিতে মঞ্চে আসেন সেরা পাঁচ প্রতিযোগী। রাজপ্রাসাদের আদলে বাড়ি থেকে নেমে আসেন এ পাঁচ সুন্দরী এবং চমৎকার রাজসিক নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া নৃত্য পরিবেশন করেন গতবারের তিন সেরা সুন্দরী মেহজাবীন, ইশানা ও স্বর্ণা।
গান পরিবেশন করে চূড়ান্ত পর্বটি আরও উপভোগ্য করে রাখেন বাপ্পা মজুমদার। তিনি শোনালেন 'আমি তোমাকেই বলে দেব' গানটি। মাইলস, অর্থহীন, আর্টসেল ও ক্রিপটিক ফেইটের পরিবেশনায় ছিল অন্যরকম আয়োজন। দু'জন বিদেশি শিল্পী পিয়ানো ও সেক্সোফোন সমন্বয়ে সুরের ইন্দ্রজাল তৈরি করে দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মুনমুন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইম থেকে সরাসরি সম্প্রচার করায় চ্যানেল আইয়ের লাখ লাখ দর্শক-শ্রোতা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড প্রডাক্ট লাক্স বেসরকারি টিভি চ্যানেল আইয়ের সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতার স্লোগান ছিল- 'রূপসী তোমার গুণের খোঁজে।' দেশের সাতটি অঞ্চল থেকে আট হাজার প্রতিযোগী বাছাই পর্বে অংশ নেন। সেখান থেকে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মূল পর্বে আসার সুযোগ পান নিশা, মৌসুমী, রাখি, টয়া ও মাশিয়াত। ২০০৫ সালে প্রথম আয়োজন করা হয় লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতা। প্রথমবার বিজয়ী হন শানারৈ দেবী শানু।। ২০০৭ সালে বিদ্যা সিনহা মিম। ২০০৮ সালে চৈতী এবং গত বছর বিজয়ী হন মেহজাবীন।
মাহাবুবা ইসলাম রাখি :মুকুটজয়ী অষ্টাদশী রাখির প্রিয় ঋতু 'বসন্ত'। উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। শখ ফ্যাশন, ট্রেন্ড, নানা মজাদার বিষয়ের ওপর লেখা নোটবুকে জমা করা। ধূসর আর ছাই বাদে সব রঙ পছন্দ তার। 'এ' লেভেলের ছাত্রী রাখি পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত মডেলিং করতে আগ্রহী।
মৌসুমী হামিদ : প্রথম রানারআপ খুলনার মেয়ে মৌসুমী হামিদ। ২১ বছর বয়সী ও ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির অধিকারী এ বিজয়ী খুলনা আজম খান কমার্স কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তবে পড়াশোনায় কিছুটা অমনোযোগী। অবসর কাটে গান শুনে আর টিভি দেখে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মৌসুমীর প্রিয় রঙ নীল আর প্রিয় পোশাক শাড়ি। সাইকেল চালানো তার শখ। মিডিয়া জগৎ মৌসুমীর খুব পছন্দ।
মেহরীন ইসলাম নিশা : ২০ বছর বয়সী ঢাকার মেয়ে নিশার পছন্দ লাল রঙ আর নীল অর্কিড। তার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। এলএলবি পড়ছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রিয় অভিনয়শিল্পী জাহিদ হাসান এবং জয়া আহসান। খুব সহজে হার মানার মেয়ে নন নিশা। তার প্রিয় পোশাক শাড়ি, প্রিয় সাজ হলো কাজল আর মাশকারা দিয়ে চোখ সাজানো। তিনি নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে ভালোবাসেন। স্বপ্ন বড় একজন অভিনয় শিল্পী হওয়ার।
No comments:
Post a Comment